যশোর ভিত্তিক মাদক চক্রের ৪ সদস্য ঢাকায় গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা
ডিএনসি বলছে, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সংঘবদ্ধ পাচারচক্রের তথ্য।
ঢাকা অফিস : যশোরভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ রাজধানী ঢাকার শ্যামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক বিকিকিনির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই রাতে রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি এলাকার প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), তার স্ত্রী মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), জহিরুল হক তুহিন (৩২) ও জলি বেগম (২০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে টেকনাফ ও ঢাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন।
ডিএনসি আরও জানায়, গত ৯ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক এক অভিযানে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই চক্রটির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
এর ধারাবাহিকতায় ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ধোলাইপাড় এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রটি গণপরিবহনের পরিবর্তে মোটরসাইকেলে করে ঢাকায় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করত। পরে তা দ্রুত যশোরে এনে বিভিন্ন খুচরা মাদক বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হতো। পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তারা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএনসি সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার মনিরা বেগম মিষ্টির ভাই যশোরের ইছালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মইদুলও পূর্বে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া প্রিন্স মাহমুদের বিরুদ্ধেও অতীতে একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শ্যামপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রটির অর্থদাতা ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

