1
1
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর :
যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল মোবিল ও ভেজাল দস্তা সার তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত সামাউল ইসলাম ইমন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবারও অবৈধ কারখানা চালুর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের একাধিক অভিযানে কারখানা সিলগালা হলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে পুনরায় পুরোদমে উৎপাদন চলছে। এতে পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে সামাউল ইসলাম ইমন নিজের বাড়ির পাশেই ভেজাল মোবিল তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন। কারখানার আশপাশে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। পোড়া মোবিল থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পাশের পুকুরে ফেলা হয়। সেই দূষিত পানি আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ায় মাছ মারা যাচ্ছে, জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের নিম্নমানের ও ভেজাল সার ব্যবহারে মাটির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, ইমনের উৎপাদিত নিম্নমানের সার যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। অথচ বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকরভাবে এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
৪ নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির তুহিন জানিয়েছেন , ‘প্রশাসনের অভিযানে একাধিকবার কারখানাটি সিলগালা করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা আবার চালু হয়ে যায়। অর্থবলের কারণে ইমন বারবার আইনের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই তিনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
স্থানীয়রা জানান, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে ইমন নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের শ্যালক বলে পরিচয় দিতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তিনি আবারও আগের মতো ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বর্তমানে ইমন এতটাই বেপরোয়া যে খোদ তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের নাকের ডগায় এসব কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও প্রশাসন তাকে ছুঁতে পারেনা। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে স্থানীয় কেউ কথা বলতে সাহস পান না।’
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, ধানঘাটা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ইমনের একটি ‘ক্যাফে হাউজ’ রয়েছে। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে সেখানে বিভিন্ন অপরাধীদের আনাগোনা দেখা যায়। এমনকি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদেরও সেখানে যাতায়াত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ইমনের কর্মকান্ডে তালবাড়িয়া গ্রামটি আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ফুলতলা মোড়ে অপরিচিত লোক প্রবেশ করলেই পড়তে হয় ইমন সিন্ডিকেটেরর জেরার মুখে। এলাকাবাসী গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।