নিজস্ব প্রতিনিধি, যশোর
যশোরের ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সামনেই মারধরের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গোপনাঙ্গে হাত দেয়ার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. খলিলুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান কামরুজ্জামান বাচ্চুর বিরুদ্ধে।
হামলাকারী লাইব্রেরিয়ানের গোপনাঙ্গে হাত দেয়ার অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণীত না হলেও ‘হামলাকারী ও হামলার শিকার’ দুজনকেই সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে । উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষ্যদর্শী শিক্ষার্থীদের।
জানা গেছে, গত ৭ জুন বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে। লাইব্রেরিয়ান কামরুজ্জামান বাচ্চু তার গোপনাঙ্গে হাত দেয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষক খলিলুর রহমানকে প্রকাশ্যে মারধর করেন। এ সময় বিদ্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ফুটেজে অভিযোগের পক্ষে কোনো স্পষ্ট দৃশ্য দেখা যায়নি। যদিও লাইব্রেরিয়ান কামরুজ্জামান বাচ্চু দাবি করেছেন, ফুটেজে এমন একটি দৃশ্য থাকার কথা।
এদিকে বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা শিক্ষক খলিলুর রহমানকে নির্দোষ বলে দাবি করছেন। তাদের দাবি,লাইব্রেরিয়ান বাচ্চু’ই দোষী । সিসিটিভি ফুটেজেও অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হয়নি।
তবে এ ঘটনায় বিতর্কিত অবস্থান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের। সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামাল আহম্মদ জানিয়েছেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে হামলাকারী লাইব্রেরিয়ান কামরুজ্জামান বাচ্চু এবং হামলার শিকার শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান উভয়কে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তার দাবি ‘দুজনের একজনের বাহ্যিক সমস্যা, অপরজনের ইন্টারনাল সমস্যা এমন বিষয় তদন্তে উঠে এসেছে।’ একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ স্পষ্ট (ক্লিয়ার) রয়েছে।
তবে ‘বাহ্যিক সমস্যা’ ও ‘ইন্টারনাল সমস্যা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে বা তদন্তে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ ঘটনায় সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামাল আহম্মদ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন বলে ধারনা করছেন আক্রান্ত শিক্ষক খলিলুর রহমান ।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে সংঘটিত এ ঘটনা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগের স্পষ্ট প্রমাণ না থাকার পরও কেন হামলার ঘটনা ঘটল এবং তদন্তের ভিত্তিতে কী তথ্য পাওয়া গেছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি এলাকাবাসীর।
ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর সবার।
কেমন অনুভব করছেন ?
Like
Love
Happy
Sad

