সঞ্জীব চৌধূরি : কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এবার দলটির নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে এই প্রস্তাব জানায়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় যুক্ত করতে হবে।
দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কোনো পর্যায়ের নেতার স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। ইসি এই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করবে বলে তারা আশাবাদী।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরের বছর দলটির যাবতীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অন্তর্র্বতী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এরপর ইসি আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করায় গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি। আগামী অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভোটের পরিকল্পনা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়, কারণ এবারের স্থানীয় নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে।
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সংলাপ করবে না। সে কারণে নির্বাচনের খসড়া আচরণ বিধিমালা প্রস্তুত করে তার ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চায় ইসি।
সেই মতামতের চিঠিতেই জামায়াতে ইসলামী আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসনে নিযুক্ত কোনো প্রশাসক বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পদে নিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করা।
এছাড়া নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন; প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার পাশাপাশি প্রার্থীর আপিলের সুযোগ রাখা; নির্বাচনী ক্যাম্পে এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ ব্যবহারের সুস্পষ্ট বিধান এবং সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে, সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী সদস্যপদে সরাসরি নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটার নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিশেষ দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
কেমন অনুভব করছেন ?
Like
Love
Happy
Sad
