বেনাপোল প্রতিনিধি : নতুন অর্থবছরের বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত আমদানি ব্যয়ের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক আমদানিকারক মাছ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে বাজারে মাছের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে গড়ে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক মাছ আমদানি হতো। তবে নতুন বাজেট কার্যকর হওয়ার পর আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
আমদানিকারকরা জানান, নতুন অর্থবছরে মাছ আমদানিতে মোট শুল্ক হার ৪৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মিঠা পানির মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৮৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা ১০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত শুল্কের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ করায় আমদানি ব্যয় আরও বেড়েছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে মাছ আমদানি বন্ধ বা সীমিত করেছেন।
আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বন্দরনির্ভর শ্রমিক, ট্রাকচালক ও পরিবহন খাতেও। সংশ্লিষ্টরা জানান, মাছ পরিবহনের কাজ কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক ও পরিবহনকর্মী কর্মসংকটের মুখে পড়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য মান নিয়ন্ত্রণ পরিদর্শক আসওয়াদুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে মাছের আমদানি কিছুটা কমেছে। তবে কোনো আমদানিকারক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে দ্রুত মাছ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মুক্তা চৌধুরী জানান, নতুন বাজেট কার্যকরের পর ১১ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত তাদের দপ্তর দিয়ে ৩৮৬ টন মিঠা পানির মাছ এবং ১৯৪ টন সামুদ্রিক মাছ আমদানি হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। নতুন শুল্ক কাঠামো বহাল থাকলে আমদানি আরও কমে যেতে পারে, যার ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়েও ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা দ্রুত মাছ আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক হার পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান শুল্ক কাঠামো বহাল থাকলে মাছ আমদানি আরও কমে যাবে, বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হবে এবং ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব সহ সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কেমন অনুভব করছেন ?
Like
Love
Happy
Sad

