Year: 2026

দুর্জয় ডেস্ক :

ভারতের ওডিশা রাজ্যের কেওনঝর জেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে তাঁর কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির হয়েছেন এক আদিবাসী ব্যক্তি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বারবার হিসাবধারীর মৃত্যুর প্রমাণ চাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে কেওনঝর জেলার পাতনা ব্লকের অন্তর্গত ওডিশা গ্রামীণ ব্যাংকের মালিপোসি শাখায়।

ওই ব্যক্তির নাম জিতু মুন্ডা (৫০)। তিনি দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তাঁর বড় বোন কালরা মুন্ডার (৫৬) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার রুপি তুলতে চেয়েছিলেন। দুই মাস আগে অসুস্থতার কারণে কালরা মুন্ডার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, গবাদিপশু বিক্রি করে ওই অর্থ জমা করেছিলেন কালরা মুন্ডা। তাঁর আর কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকায় কয়েক দিন আগে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করেন জিতু মুন্ডা।
কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে মৃত্যু সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলে। এসব নথি সংগ্রহ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত জিতু মুন্ডা তাঁর বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করে ব্যাংকে নিয়ে আসেন।

অশিক্ষিত জিতু মুন্ডা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বহুবার ব্যাংকে গেছি। তারা আমাকে বলেছে, অ্যাকাউন্টধারীকে নিয়ে আসতে হবে টাকা তুলতে। আমি বলেছি, সে মারা গেছে, কিন্তু তারা শোনেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমি কবর খুঁড়ে তার কঙ্কাল নিয়ে এসেছি, যেন প্রমাণ দিতে পারি সে আর বেঁচে নেই।”

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পাতনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “জিতু একজন অশিক্ষিত আদিবাসী মানুষ। তিনি বৈধ উত্তরাধিকারী বা নমিনি বিষয়টি জানেন না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও তাঁকে সঠিকভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে বলতে ব্যর্থ হয়েছে।”

পুলিশ জিতু মুন্ডাকে আশ্বাস দিয়েছে, তাঁর মৃত বোনের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে তারা সহায়তা করবে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে কঙ্কালটি আবার কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) বলেন, বিষয়টি আগে কেউ তাঁকে জানায়নি। এখন সমস্যার সমাধানে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কালরা মুন্ডার অ্যাকাউন্টে যিনি নমিনি ছিলেন, তিনিও মারা গেছেন। ফলে জিতু মুন্ডাই ওই টাকার একমাত্র দাবিদার।

স্থানীয় প্রশাসন ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত জিতু মুন্ডার হাতে টাকা বুঝিয়ে দিতে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নাগরিকের জানার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের কার্যক্রম, নীতি ও সেবা সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ নিশ্চিত না হলে নাগরিকের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে, তথ্য অধিকার আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশেও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে ‘তথ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন করা হয়, যা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত করার আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।

তথ্য অধিকার কেবল একটি প্রশাসনিক ধারণা নয়। এটি গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহি এবং নাগরিক ক্ষমতায়নের একটি মৌলিক উপাদান। রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে তথ্য অধিকার অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। তথ্য অধিকার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত মানবাধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অংশগ্রহণমূলক শাসন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে শক্তিশালী করে। জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র (১৯৪৮)- এর ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেকেরই কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়া মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। এই স্বাধীনতার মধ্যে ‘যেকোনো মাধ্যমে এবং রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও ধারণা অনুসন্ধান করা, গ্রহণ করা এবং পৌঁছে দেওয়া’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যা মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এই অনুচ্ছেদের অধীনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯-এ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্য জানার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সাংবিধানিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়েছে। ফলে তথ্য অধিকারকে একদিকে আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ে এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ না থাকলে নাগরিকরা রাষ্ট্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হতে পারে না এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই তথ্য অধিকারকে গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য ভিত্তি বলা হয়। বাংলাদেশে তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্র একসময় অত্যন্ত সীমিত ছিল। সরকারি দপ্তরগুলোতে তথ্যকে অনেক সময় গোপনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং সাধারণ নাগরিকের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাধাগ্রস্ত হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকরা তাদের প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে অবগত হতে পারতেন না।
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বেশ কয়েকটি আইন ও বিধিমালা কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯। এই আইনের মাধ্যমে নাগরিকদের সরকারি ও নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত বিধিমালা, ২০০৯ বিধিমালায় তথ্য চাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া, ফি, সময়সীমা ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধিমালা, ২০১০ এ সরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, তথ্য প্রকাশ ও প্রচার প্রবিধানমালা, ২০১০ এ প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট কিছু তথ্য স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে তথ্যপ্রাপ্তির একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে উঠেছে।

২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হওয়ার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। এই আইনের ফলে নাগরিকরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাইতে পারেন। আইনটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করে, যা তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। কেউ মিথ্যা বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সরবরাহ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তথ্য কমিশনের অন্যতম কাজ। তথ্য কমিশন তথ্য অধিকার সংরক্ষণে গবেষণা করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে থাকে। তথ্য কমিশন তথ্য অধিকার সংক্রান্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দলিলের সাথে বিদ্যমান আইনের বৈসাদৃশ্য পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাছাড়াও তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রণয়নের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে।

বাংলাদেশ সরকার তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনেক তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধিদপ্তর তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও তথ্য প্রকাশ করছে এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশিকা অনুসরণ করছে। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নাগরিক সেবার মান উন্নত হয়েছে। প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে, যারা তথ্যপ্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করেন। সরকারি কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের মধ্যে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে বার্ষিক প্রতিবেদন, প্রকল্প তথ্য, বাজেট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করছে।

তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়। তথ্য উন্মুক্ত হলে প্রশাসনের কার্যক্রম জনগণের কাছে দৃশ্যমান হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কমে। অন্যদিকে তথ্য গোপন থাকলে দুর্নীতির সুযোগ বাড়ে। তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ নাগরিককে সচেতন করে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করে। সরকারি প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে নাগরিকরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। আইন, নীতিমালা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য নাগরিকদের আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করে।

তথ্য অধিকার আইন নাগরিকের যেকোনো সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে তথ্য চাওয়ার অধিকার দিয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অখ-তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি স্বরূপ তথ্য, কপিরাইট বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য, আদালত অবমাননার শামিল বিচারাধীন বিষয় সম্পর্কিত কোনো তথ্য, ইত্যাদি প্রকাশ বা প্রদান তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ৭ ধারা অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়। এ ধারার অধীন কোনো তথ্য প্রদান স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

তথ্য অধিকার আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে তথ্য প্রদান করতে হবে। তবে তথ্য প্রদানের সাথে একাধিক তথ্য প্রদান ইউনিট জড়িত থাকলে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এবং চাহিত তথ্য কোনো ব্যক্তির জীবন-মৃত্যু, গ্রেফতার এবং কারাগার হতে মুক্তি সম্পর্কিত হলে ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
তথ্য অধিকার আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য আরও কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন- গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা যেতে পারে। তথ্য ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রদানের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া। তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হচ্ছে তা নিয়মিত মূল্যায়ন করলে, এই আইনের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তথ্য অধিকার আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এটি নাগরিকের ক্ষমতায়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নাগরিকের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রসারিত হয়েছে। তবে তথ্য অধিকারকে আরও কার্যকর করতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে।
সরকার, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তথ্য অধিকারকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এর মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যাবে, যা টেকসই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথকে সুদৃঢ় করবে।

বৈশাখ এলেই সাধারণত কালবৈশাখী ঝড়ের কথা মনে পড়ে। এ সময় ঝড়ের তাণ্ডবে গাছপালা, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে এবার বৈশাখে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ঝড় দেখা যায়নি। বরং গত কয়েক দিনে বর্ষার মতো টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। দীর্ঘ চার-পাঁচ মাসের খরার পর এই বৃষ্টি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবনে কিছুটা প্রশান্তি ফিরেছে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য এ বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সেচ সংকট কাটিয়ে ফসল এখন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে, আর ইরি-বোরো ধানে ভালো ফলনের আশা জেগেছে।

তবে এই স্বস্তির পাশাপাশি নগরজীবনে দেখা দিয়েছে ভোগান্তির চিত্র। রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই পানি জমে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যা নতুন নয়; বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা নানা সমাধানের পরামর্শ দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।

বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রতি বছরই দেখা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তার সঙ্গে যুক্ত হয় চলমান সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, যা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পানিবদ্ধতা ও যানজট মিলে নগরবাসীর জীবন হয়ে ওঠে অত্যন্ত কষ্টকর।

এই সমস্যার অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বিদ্যমান ড্রেন ও নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সেগুলো আবর্জনায় ভরে থাকে, ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না। পাশাপাশি খাল ও জলাশয় দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। খাল ও জলাশয় উদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং দায়সারা মনোভাব পরিহার করা প্রয়োজন।

এ সমস্যার সমাধানে নাগরিকদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। পলিথিন ও কঠিন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা বন্ধ করতে হবে, যাতে ড্রেন বন্ধ হয়ে না যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, পানিবদ্ধতা এখন নগরজীবনের বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এখন সময় কথার চেয়ে কাজে প্রমাণ করার।

যশোরের বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা মামলার জট খুলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের আরাফাতের ছেলে সবুজ হোসেন (২১)। নিহত ইউনুস আলী (৪৭) ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

পিবিআই-এর পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পূর্বের দাম্পত্য জটিলতা থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় একত্রে বসবাস—এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র হয় এবং শেষ পর্যন্ত হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

গত ২২ এপ্রিল তরিকুল ইসলাম কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ারসহ কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে সবুজের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সবুজ হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।

যশোর প্রতিনিধি: যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। কোতয়ালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযানে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করেছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ডিবির এসআই অলোক কুমার দে’র নেতৃত্বে একটি দল থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্ত মরিয়মকে আটক করে। পরে দুপুর ১টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, নিহত সকিনা বেগম (৬০) বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী। গত ২১ এপ্রিল সকালে তার ছেলে শহিদুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার সময় স্ত্রী মরিয়ম তাকে বাইরে খেয়ে নিতে বলেন এবং জানান বাসায় রান্না হয়নি। এ সময় মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম জানান, তিনি তালিমে গেছেন।

রাতে বাড়ি ফিরে শহিদুল ইসলাম তার মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ নেন। মরিয়ম একই কথা বললে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তিনি কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতর থেকে লাশ দেখতে পান তিনি। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন লাশটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরিয়মের আচরণে অসংগতি দেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনার দিন শাশুড়ির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করেন। পরে লাশ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ঘরের ওয়ারড্রোবের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অনুসন্ধান, চৌগাছা (যশোর)অফিস:

যশোরের চৌগাছায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমি ভোগদখল দ্বন্দ্ব এবার গড়িয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলায়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি—পুলিশকে ব্যবহার করতে না পেরে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই মামলা দায়ের করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মাকাপুর গ্রামের বাসিন্দা তামান্না নাজনীন লাভলী যশোর আদালতে মামলাটি করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় ৪০ বিঘা জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বাদী ও তার মেজ ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, উভয় পক্ষই নিজেদের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। তবে পুলিশ বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দিলে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

স্থানীয়দের মতে, পুলিশ নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় এক পক্ষ তাদের প্রত্যাশিত সুবিধা না পেয়ে ক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

মামলায় চৌগাছা থানার সাবেক ওসি আনোয়ার হোসেনসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাদেরই নিকটতম প্রতিবেশিরা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং পরিবারটিকে ‘মামলাবাজ’ বলে দাবি করেছেন।

একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক দ্বন্দ্বে পুলিশকে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক প্রকার ক্ষোভের বসেই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবারটি।

এই পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হায়দার আলীর মৃত্যু। তিনি উপজেলার সুকপুকুরিয়া ইউনিয়নের মাকাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মৃত্যুর চার মাস পর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তার বোন হামিদা বেগম বাদী হয়ে হায়দার আলীর ছেলে-মেয়েসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ২৩ জানুয়ারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান ও পুলিশের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়—যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের ভাষায়, “জমির জন্য ওরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।”

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। লন্ডনে কর্মরত ব্যারিস্টার একেএম মর্তুজা রাসেল বাড়িতে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরায় তার বৃদ্ধ পিতা হায়দার আলীর ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখার দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া নিয়মিত মারধর, খাবার না দেওয়া এবং শীতের রাতে কষ্ট দেওয়ার ঘটনাও ফুটেজে ধরা পড়ে বলে দাবি করা হয়।

রাসেল ২০২৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আদালতের মাধ্যমে বাবাকে নিজের জিম্মায় নিয়ে চিকিৎসা করান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রাসেলের ফুফু হামিদা বেগম হত্যা মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে, ০৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে রাসেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন তার মা লতিফা হায়দার ও অন্য ভাইবোনেরা।

লতিফা হায়দার অভিযোগ করেন, উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যারিস্টার বানানো সন্তানই এখন তাকে কারাগারে পাঠাতে চাচ্ছেন। তিনি জানান, ২০০৭ সালে ছেলেকে লন্ডনে পাঠাতে প্রায় ২০ লাখ এবং ২০১৬ সালে আরও ৩৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

তার দাবি, এই আর্থিক বিরোধ থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতে, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ জমি দখল হয়ে গেছে এবং বাকি জমিও দখলের চেষ্টা চলছে।

অপরদিকে, ব্যারিস্টার রাসেল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কোনো সম্পত্তির লোভ নেই। বরং তার মা ও ভাইবোনরা নির্যাতন ও ‘স্লো পয়জনিং’-এর মাধ্যমে তার বাবাকে অসুস্থ করে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারে বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্নভাবে পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পুলিশ হস্তক্ষেপ না করায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করেছে বলে তারা মনে করেন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক বিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জড়িয়ে পরে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।

বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্তাধীন। স্খানীয়রা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই এই জটিল ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। তারাও চান এই বিরোধের সমাপ্তি ঘটুক।

দুর্জয় নিউজ ডেস্ক : মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্যতম সূচনাকারী মাহবুব জামাল শামীম উৎসবটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যে অসাম্প্রদায়িক ও স্বতঃস্ফূর্ত চেতনা নিয়ে চারুকলা থেকে এই যাত্রার শুরু হয়েছিল, বর্তমানে তার ওপর নানাভাবে রাজনৈতিক ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে।

শোভাযাত্রার নাম নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কগুলোকে তিনি অপ্রয়োজনীয় ও সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন তিনি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) যশোর চারুপীঠে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন এ শিল্পী।

তার মতে, বাঙালির এই লোকজ উৎসবটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রশাসনের একক সম্পদ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকার। বর্তমানে প্রশাসনের অতিরিক্ত কড়াকড়ি এবং সরকারের একচ্ছত্র হস্তক্ষেপের ফলে উৎসবটির যে স্বাধীন ও প্রতিবাদী চরিত্র ছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি মনে করেন, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ছাঁচে ফেলার চেষ্টা করা হয়, তবে এর মূল আবেদন হারিয়ে যাবে। তাই এর স্বকীয়তা ও আদি বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে শিল্পী এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শামীম।