Year: 2026

যশোর প্রতিনিধি:

যশোর সদর উপজেলার হালসাগ্রামে দুঃসাহসিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ভয়াবহ সেচ সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। দুর্বৃত্তদের চুরির ফলে প্রায় ৬০০ বিঘা জমির ইরি ধান আবাদ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৫০০ কৃষকের জীবিকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার গভীর রাতে একদল চোর সেচ পাম্পের সঙ্গে সংযুক্ত ৯টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায়। এতে করে পুরো এলাকার সেচ কার্যক্রম হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে পড়ে। চলতি মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে এমন ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, ধানের শীষে এ সময় নিয়মিত পানির সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সেচ দিতে না পারলে ফসল শুকিয়ে ‘চিটা’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।

এদিকে, জ্বালানি সংকটের কারণে বিকল্প ইঞ্জিনচালিত সেচ ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে চালু করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষকদের সামনে কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প পথ খোলা নেই।

চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো পুনঃস্থাপনে প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন।

বুধবার (১ এপ্রিল) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাঃ রাজিয়া সুলতানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা এখনো বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন এবং সেচ ব্যবস্থা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

যশোর প্রতিনিধি :যশোরে কর্মরত ডিবিসি নিউজ ও দ্য ডেইলি অবজারভারের জেলা প্রতিনিধি এস এম এম সাকিরুল কবীর রিটনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য পরিবেশনের অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রাফসান জনি কে আসামি করে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিক রিটন যশোরের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ।
অভিযুক্ত রাফসান যশোর শহরের খড়কী এলাকার বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ যশোর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ডা. রাফসান জনি। সেখানে তিনি সাংবাদিক সাকিরুল কবীর রিটনের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনেন। মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেছেন, আসামির শ্যালিকা সামিয়া আফরোজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিতর্কিত ইস্যুকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এই পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ডা. রাফসান জনি সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাংবাদিক রিটনের দীর্ঘদিনের অর্জিত সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন। আসামির এমন কর্মকাণ্ডে বাদীর আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
মামলার বাদী সাকিরুল কবীর রিটন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছি। ডা. জনি নিজের পারিবারিক অপরাধ ঢাকতে আমাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যা চাঁদাবাজির গল্প সাজিয়েছেন। এতে সাংবাদিক সমাজসহ আমার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি আইনের মাধ্যমে এর বিচার চাই।’
আদালত বাদীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নে লিমা খাতুন (২৩) নামে এক যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে গয়েশপুর মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নিহত লিমা খাতুন উপজেলার বড় উদাস গ্রামের আবদুল হাইয়ের মেয়ে। তার স্বামী সুজন মিয়া ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাট গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লিমা খাতুন নিখোঁজ হন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, গয়েশপুর মাঠ থেকে এক যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় রশি প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


নিউজ ডেস্ক :
এবারের ঈদুল ফিতরের আগে–পরে সড়ক, নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২৮৮ জন। আর ঈদের এই ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং অন্তত ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। মোট দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে- যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬’প্রকাশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ এবং নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নতুন সরকার আসলেও পরিবহন খাতে পুরোনো আমলা এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদের মাফিয়া স্টাইল নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। পরিবহন মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা নিতে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

দুর্ঘটনার মূল কারণসমূহ:-

১. সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।

২. ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক।

৩. উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং সড়কে চাঁদাবাজি।

৪. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রীদের ট্রাক, পিকআপ ও ট্রেনের ছাদে জীবনঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ।

দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু করা, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার নিবন্ধন বন্ধ করা, জাতীয় মহাসড়কে রাতে আলোর ব্যবস্থা করা এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মোট ২১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে

যশোর প্রতিনিধি :

যশোরের হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে গত দুই মাসে ২০০ জনের উপরে শিশু হামের চিকিৎসা নিয়েছে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু টিকা নেয়নি বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে যশোর শিশু হাসপাতালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, রোগীর ভিড় ও লম্বা লাইন। সবার কোলে শিশু। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কেউ এসেছেন হাম কি না, তা নিশ্চিত হতে, কেউ এসেছেন বসন্ত কি না, তা জানতে।

হাসপাতালে দ্বিতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় শহরের ষষ্ঠীতলা পাড়ার বাসিন্দা জুলিয়া খাতুনের সাথে। তার ১৫ মাসে মেয়ে সন্তান নিয়ে বুধবার এ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বলেন, শরীরে লাল দাগ ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়। পরে জানতে পারি হাম হয়েছে। চিকিৎসা নেয়ার পর থেকে আমার মেয়ে অনেকটা সুস্থ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিক কার্ড হারিয়ে যাওয়ার কারণে হাম রুবেলার টিকা নেয়া হয়নি।

এর পাশের রুমে কথা হয় মণিরামপুর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের উজ্জ্বল দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, আট মাস বয়সের মেয়ে জ্বর হয়। সাথে গায়ে র‍্যাশ ওঠে। একটি বেসরকারি ক্লিনিকে মেয়েকে দেখানো হয়। তারপর ওই ক্লিনিক থেকে জানায় ছেলে হামে আক্রান্ত, এই হাসপাতালে আনতে পরামর্শ দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করি।

ওয়ার্ডের ইনচার্জ সাইদা সুলতানা বলেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। প্রতিদিন শিশুরা চিকিৎসা নিতে আসছে। দুই মাসে ৯০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু টিকা নেয়নি। যার কারণে তার আক্রান্ত হয়েছে।

যশোর শিশু হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সৈয়দ নূর-ই হামিম বলেন, টিকার কোনো অভাব নেয় হাসপাতালে। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। সচেতনতা বাড়লে আক্রান্তে হার কমবে।’

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. আফসার আলী বলেন, গত তিন মাসে ৪৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। তারা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে।
তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে দেখা গেছে, অনেকেই আগে হামের টিকা নিয়েছে। তারপরেও এসব শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ গবেষণা চালাচ্ছে।

যশোর সিভিল সার্জন মাসুদ রানা বলেন, সারা দেশেই হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। যশোরেও অনেক শিশু ভর্তি হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যশোরে টিকা অভাব নেই।

নড়াইল সদরে একটি পাম্পে জ্বালানি তেল না পেয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর ম্যানেজার নাহিদ সরদারকে (৩৫) ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রোববার (২৯ মার্চ) র‌্যাব-৬ এ তথ্য নিশ্চিত করে।

এক বার্তায় র‌্যাব জানায়, নড়াইলের তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সরদারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চালক সুজাত আলীকে যশোরের বাঘারপাড়া হতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (২৮ মার্চ) মধ্যরাতে সদরের তুলারামপুর রেলসেতুর পূর্ব প্রান্তে যশোর নড়াইল মহাসড়কের তানভীর ফিলিং স্টেশনের কাছে ট্রাকচাপায় নিহত হন পাম্পের ম্যানেজার নাহিদ সরদার। এ ঘটনায় তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যার (২৯) অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ম্যানেজার নাহিদ তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে। তার আহত বন্ধু জিহাদুল মোল্যা একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।

ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, গত রাতে সুজাত নামে এক ট্রাকচালক তেল নিতে সদরের তানভীর ফিলিং স্টেশনে আসেন। এ সময় তেলা নেওয়াকে কেন্দ্র করে ম্যানেজারের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই চালক প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।

পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাগ্‌বিতণ্ডার পরও ওই চালক ট্রাক নিয়ে পাম্পেই অবস্থান করছিলেন। রাত ২টা ১০ মিনিটে ফিলিং স্টেশনের কাজ শেষ করে নিজ বাড়ির উদ্দেশে মোটরসাইকেলে সহকর্মী জিহাদকে নিয়ে পাম্প থেকে বের হন নাহিদ। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতগতিতে তাদের পেছনে ধাওয়া করতে দেখা যায়, ট্রাকটিকে। পরে ট্রাকের চাপায় নাহিদ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তার বন্ধু জিহাদুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা হাসাপাতালে নিলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল পাঠানো হয়।

দুর্জয় নিউজ ডেস্ক : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাসের নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া এবং এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ যাত্রীর কোনো হদিস না পাওয়ায়, দেশব্যাপী জনমনে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অসংখ্য হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বহুদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অমনোযোগিতার কারণে জীবনহানি ঘটেই যাচ্ছে। এসব দুর্ঘটনার বিষয়ে পূর্ব থেকে সজাগ ও সতর্ক থাকলে প্রাণহানিসহ ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেতো।

নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারকাজ অতিদ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তদন্ত কমিটি গঠন করে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। প্রাণহানিসহ ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সহমর্মিতা।

এ দুর্ঘটনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশসহ তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন মির্জা ফখরুল।