সুমির হুসাইন : যশোরের চৌগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক সুপারিশ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। শুমারির তালিকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন কয়েকজনের নাম থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুমারি কার্যক্রমে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় এবং সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা কয়েকজনের নাম আসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
জানা গেছে, পাতিবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য দাউদ হোসেনের ছেলে মুক্তদাহ গ্রামের জাকির হোসেনের নাম রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায়। তালিকায় তার ক্রমিক নম্বর ৪৭ এবং রোল নম্বর ১১৪৩। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার আত্মীয় পরিচয়ে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন।
এদিকে পাতিবিলা গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে নূরনবী শবেকদর বাবুর নামও রয়েছে শুমারির তালিকায়। তার ক্রমিক নম্বর ৫০ এবং রোল নম্বর ১১৩০। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বাবুর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ছবি থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নূরনবী শবেকদর বাবু এসব অভিযোগ পরোক্ষভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, একসময় তিনি পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে একজন সংসদ সদস্যের সাথে বাবুর নির্বাচনী প্রচারণার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাবুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন একটি লিখিত বিবৃতিও দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদলের প্যাডে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ৭ নম্বর পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি সংবলিত যে প্যাডের ছবি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি বিভ্রান্তিকর। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, নূরনবী শবেকদর বাবুর সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগসূত্রের অভিযোগ ওঠায় ওই কমিটি অনেক আগেই জেলা ছাত্রদল বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। বর্তমানে তার সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে রাজনৈতিক পরিচয় বা সুপারিশের প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর যথাযথ যাচাই করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও চৌগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন জানিয়েছেন, ‘কে কোন দল সমর্থন করে, সেসব খবর তো জানা সম্ভব নয়। তবে যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাই নিয়োগ পেয়েছে।’






















