‘নিহত আল আমিনের দুটি শিশু সন্তান রয়েছে জানতো না ঘাতকরা । তারা জানতো আল আমিন অবিবাহিত’
সালাহ্উদ্দীন সাগর :
‘গোল্ডের বিস্কুট বা সোনার বার নিয়ে আসছে একপার্টি এ কথা বলে গত ২০ আগস্ট যশোরের বারান্দিপাড়া লিচুতলার মালোপাড়া সেগুণ বাগানে স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ী আল আমিন ওরফে পেরেক আল আমিনকে ফোন কওে ডাকেন গোলাম রসুল ও টুটুল নামে আল আমিনের দুই পরিচিত জন।
কিছুক্ষণ পর মটর সাইকেল যোগে আল আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাইকের উপর বসা অবস্থায় বিভিন্ন কথার ছলে তার চোখে ঝালের গুড়া নিক্ষেপ করে টুটুল। চোখে ঝালের গুড়া লাগলে বাইক থেকে নেমে দাঁড়িয়ে পড়ে আল আমিন। এ সময় আল আমিনের পেটে সেভেন গিয়ার চাকু দিয়ে একাবার স্টেপ করে টুটুল। সাথে সাথে গোলাম রসুল ইট নিক্ষেপ করে। ইটটি তার পেছনে লাগে । সেটি আবার কুড়িয়ে নেয় গোলাম রসুল । এর মধ্যে আল আমিনের বুকে পিঠে উপর্যুপরি ৩ বার ছুরিকাঘাত করে টুটুল। হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টার এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে থাকে আল আমিন । কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি। ফের ইট নিক্ষেপ কওে গোলাম রসুল ইটটি আল আমিনের ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত করে । মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আল আমিন। তখন পিঠের মাঝ বরাবর চতুর্থ স্টেপ করে টুটুল। এ সময় পাশে থাকা রাজমিস্ত্রীরা ধর ধর চিৎকার করলে প্রথমে পালিয়ে যায় গোলাম রসুল। এরপর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে টুটুল।
মাটিতে পড়ে থাকা আল আমিন শেষ একবার টুটুল বলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে থাকা অবস্থায় প্রাণ হারান।
এরপর পূর্ব বারান্দীপাড়া এ ওয়ান স্কুলের পেছনে বাবুর মেহগনি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয় আল আমিনের মরদেহ।
ঘাতকরা লিচুতলা মাদ্রাসার দুটি প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। প্রথমে শহরের পুলিশ লাইনস্ এলাকা , তারপর ঝিকরগাছায় আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকে । এরপর অনুশোচনায় পড়ে ফের যশোরে ফিরে আসে গোলাম রসুল তবে টুটুল আর ফেরেনি । পরে প্রতিকূল পরিস্থিতি দেখে গোপালগঞ্জে।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার পুইশুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুইশুর এলাকায় বাসু সিকদারের বসতঘর থেকে গোলাম রসুলকে গ্রেপ্তার করে যশোর পিবিআই।
পিবিআই’র হাতে গ্রেপ্তারের পর এভাবেই আল আমিনের সাথে লোমহর্ষক নির্মমতার বর্ণনা দিচ্ছিলেন গোলাম রসুল । তবে নিহত আল আমিনের দুটি শিশু সন্তান রয়েছে জানতো না ঘাতকরা । তারা জানতো আল আমিন অবিবাহিত। এ কথা বলে মূর্ছাযাচ্ছিলেন ঘাতক গোলাম রসুল ।
ঘটনার পর নিহতের মা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে মামলাটির তদন্তভার নেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যেও ভিত্তিতে ঘাতক রসুলকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেন পিবিআই যশোর।
পিবিআইয়ের দাবি, কয়েকজনের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিলো। ওই বিরোধের জের ধরেই আল-আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার দিন দুপুরে গোলাম রসুল ও তার সহযোগীরা মোবাইল ফোনে একাধিকবার আল-আমিনকে কল করে এ ওয়ান স্কুলের পেছনের মেহগনি বাগানে ডেকে নেন। সেখানে আল-আমিনকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে এবং ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, আল-আমিনের সঙ্গে গ্রেপ্তার গোলাম রসুল সহ জড়িত অন্যদের বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।
গ্রেপ্তার গোলাম রসুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।














