অনুসন্ধান – সালাহ্উদ্দীন সাগর
যশোর সদর উপজেলার ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে মারধরকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনা এখন গড়িয়েছে তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত, পুনরায় শুনানি এবং একই তারিখে ‘সংশোধিত’ চিঠি ইস্যুর বিতর্কে। একদিকে বিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষককে ছয় মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করেছে; অন্যদিকে পরবর্তীতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস একই অভিযোগ নিয়ে নতুন করে শুনানি করেছে। এর মধ্যেই ১৪ জুলাই তারিখে ইস্যু করা একটি চিঠি ২১ জুলাই ফের একই তারিখ উল্লেখ করে সংশোধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে একই অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া কি একাধিকবার চলতে পারে? আর ১৪ জুলাইয়ের চিঠি যদি সংশোধন করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ২১ জুলাই নতুন তারিখে ইস্যু না করে ১৪ জুলাই তারিখেই সংশোধিত হলো কেন?
৭ জুনের ঘটনা, অভিযোগ জমা
গত ৭ জুন ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক খলিলুর রহমানকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান বাচ্চুর নাম ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ‘গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামরুজ্জামান বাচ্চু খলিলুর রহমানকে মারধর করেন। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই খলিলুর রহমান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। বরং ২২ জুন একই বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ দিতে বলা হয় তাকে।
২২ জুন নতুন অভিযোগ, পরদিনই তদন্ত কমিটি
২২ জুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অভিযোগটি দাখিল করা হয়। ওই অভিযোগের কপিতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে।
এর পরদিনই, অর্থাৎ ২৩ জুন, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রধান করা হয় স্থানীয় মাওলানা আব্দুল কাদেরকে। সদস্য হিসেবে ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি (টিআর) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গির আলম এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মো. নাসির উদ্দীন ও মো. রেজাউল হক।
প্রশ্ন হচ্ছে—৭ জুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জমা পড়ার পর ২৩ জুন পর্যন্ত কেন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো না? আর ২২ জুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অভিযোগ যাওয়ার পরদিনই কেন বিদ্যালয় পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো?
৩০ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন, ছয় মাসের সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ
তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে শিক্ষক কামরুজ্জামান বাচ্চুকে অভিযুক্ত করে ছয় মাসের সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিনই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান। তদন্ত কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
এরপর কামরুজ্জামান বাচ্চুকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রতিনিধি ও তদন্ত কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, সভায় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলেও এর লিখিত রেজুলেশন বা সিদ্ধান্তের কপি তাদের দেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনটির অনুলিপিও সংশ্লিষ্টদের হাতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি শিক্ষক প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুনও প্রতিবেদনের কপি পাননি বলে দাবি করেছেন।
এখানে অবশ্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানা প্রয়োজন মৌখিক ঘোষণার ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কীভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্টদের কী কী কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছিল।
তাহলে শিক্ষা অফিসে আবার শুনানি কেন?
বিদ্যালয় পর্যায়ে তদন্ত কমিটি তদন্ত করেছে, প্রতিবেদন দিয়েছে এবং তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন অবস্থায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কেন একই অভিযোগ নিয়ে আবার শুনানিতে গেল, সেটিই এখন অনুসন্ধানের অন্যতম বড় প্রশ্ন।
১২ জুলাই যশোর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম সাইফুল আলম এবং সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামাল আহমেদ ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যান বলে জানা গেছে।
এ সময় পূর্বের তদন্ত কমিটির চার সদস্যকেও বিদ্যালয়ে ডাকা হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকেও সেখানে উপস্থিত করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত শিক্ষককে মুখোমুখি করে বিষয়টি নিয়ে শুনানি করা হয়।
শুনানির সময় কামরুজ্জামান বাচ্চু নিজের ভুল হয়েছে বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কয়েকজন জানিয়েছেন।
তবে পূর্বের তদন্ত কমিটির সদস্য ও স্থানীয়দের একটি অংশ আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানান। ফলে ওইদিনও কোনো তাৎক্ষণিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি বলে জানা গেছে।
‘দুজনকেই বরখাস্ত’ ১৪ জুলাইয়ের চিঠি
এরই মধ্যে ১৪ জুলাই উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা গেছে। ওই চিঠিতে হামলার শিকার শিক্ষক খলিলুর রহমান এবং অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুজ্জামান বাচ্চু দুজনকেই সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এখানেও প্রশ্ন উঠেছে ১৪ জুলাইয়ের এই সুপারিশ কোন তদন্ত প্রতিবেদন, তথ্য বা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে করা হয়েছিল?
কারণ এর আগেই বিদ্যালয় পর্যায়ের তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষককে ছয় মাস সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করেছিল এবং ৩০ জুলাই সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অর্থাৎ ঘটনাপ্রবাহের তারিখ ও সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করে।
১৯ জুলাইয়ের বক্তব্য এবং ২১ জুলাইয়ের প্রতিবেদন
পুরো বিষয়টি নিয়ে চ্যানেল দুর্জয়ের পক্ষ থেকে ১৯ জুলাই অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুজ্জামান বাচ্চু এবং উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল আহমেদের বক্তব্য নেওয়া হয়।
কামরুজ্জামান বাচ্চুর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে তার বিরুদ্ধে যে ‘গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার’ অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো দৃশ্য নেই। তার অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ সম্পাদনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল আহমেদ জানান, তদন্তে একজনের ‘বাহ্যিক সমস্যা’ এবং অপরজনের ‘ইন্টার্নাল সমস্যা’ পাওয়া গেছে।
তবে সিসিটিভি ফুটেজে কামরুজ্জামান বাচ্চুর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নে তার বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে আসে বলে চ্যানেল দুর্জয়ের প্রতিবেদকের দাবি।
দুজনকে কেন শাস্তির সুপারিশ করা হলো এ প্রশ্নে তিনি প্রতিবেদককে পরদিন তার কার্যালয়ে চা চক্রের আমন্ত্রণ জানান ।
২১ জুলাই প্রকাশের পর ‘একই তারিখের’ নতুন চিঠি?
এরপর ২১ জুলাই চ্যানেল দুর্জয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
২১ জুলাই চ্যানেল দুর্জয়ের প্রতিবেদন দেখতে এখানে টাচ / ক্লিক করুন
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিবেদন প্রকাশের পর একই স্মারক ও ১৪ জুলাই তারিখ উল্লেখ করে নতুন আরেকটি চিঠি ইস্যু করা হয়। তবে এবার ওই চিঠিতে শুধু কামরুজ্জামান বাচ্চুকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অর্থাৎ দুটি চিঠির বক্তব্যে পার্থক্য থাকলেও পরের চিঠিতেও ১৪ জুলাই তারিখ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এখানেই অনুসন্ধানের বড় প্রশ্ন যদি ২১ জুলাই কোনো ভুল সংশোধন করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশোধিত চিঠিতে ২১ জুলাইয়ের তারিখ না দিয়ে ১৪ জুলাই তারিখ রাখা হলো কেন?
আর প্রথম চিঠিটি যদি ভুল হয়ে থাকে, সেটি বাতিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি নথিতে কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে?
দুটি চিঠিতেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম সাইফুল আলমের স্বাক্ষর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে। ফলে সংশোধিত চিঠি ইস্যুর বিষয়টি তিনি জানতেন কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
১৩ আগস্ট পুনর্বহালের উদ্যোগ, স্থানীয়দের বাধা
এরপর ১৩ আগস্ট কামরুজ্জামান বাচ্চুকে বিদ্যালয়ে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের একটি অংশ এতে আপত্তি জানালে বিদ্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাদের বাধার মুখে কামরুজ্জামান বাচ্চুকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
১৬ আগস্ট আবার বিদ্যালয়ে বাচ্চু
১৬ আগস্ট কামরুজ্জামান বাচ্চু বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িক বরখাস্ত থাকার সময়ের হাজিরা খাতায় পেছনের দিনের স্বাক্ষর একই দিনে করা হয়। পরে পারিবারিক কাজের কথা উল্লেখ করে নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
পেছনের তারিখের হাজিরা স্বাক্ষরের বিষয়টি সত্য হলে সেটি কীভাবে অনুমোদিত হলো এবং বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে—এ প্রশ্নও উঠেছে।
অনুসন্ধানে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে
ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে
১. ৭ জুন অভিযোগ পাওয়ার পর ২৩ জুন পর্যন্ত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন তদন্ত কমিটি গঠন করল না?
২. অভিযোগকারী শিক্ষকের কাছে থাকা ৭ জুনের অভিযোগটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ফরোয়ার্ড না করে ২২ জুন একই বিষয়ে নতুন অভিযোগ করতে বলা হলো কেন?
৩. ২৩ জুন তদন্ত কমিটি গঠনের পর ৩০ জুলাই প্রতিবেদন জমা পড়ল। এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক সম্পর্কে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?
৪. তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের লিখিত কপি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রতিনিধি ও সদস্যদের দেওয়া হয়েছিল কি না?
৫. বিদ্যালয় পর্যায়ে তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কেন একই অভিযোগ নিয়ে আবার শুনানি করল?
৬. ১২ জুলাই শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে পূর্বের তদন্ত কমিটির সদস্যদের ডেকে কী ধরনের শুনানি করেছিলেন এবং তার লিখিত কার্যবিবরণী কোথায়?
৭. ১৪ জুলাই দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করে যে চিঠি ইস্যু করা হয়েছিল, সেটির ভিত্তি কী ছিল?
৮. ২১ জুলাই একই স্মারক ও ১৪ জুলাই তারিখে নতুন চিঠি ইস্যু হলে প্রথম চিঠিটির অবস্থান কী?
৯. দুটি চিঠিতে বক্তব্যের পরিবর্তন কেন হলো এবং এ পরিবর্তনের অনুমোদন কে দিয়েছেন?
১০. ১৩ আগস্ট পুনর্বহালের উদ্যোগ এবং ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কার্যকারিতা কী ছিল?
‘আড়ালে কলকাঠি’ প্রমাণ নাকি প্রশ্ন?
চ্যানেল দুর্জয়ের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ঘটনাটির বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্তের মধ্যে অসামঞ্জস্য এবং নথিপত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন পাওয়া গেছে। তবে ‘আড়ালে কেউ কলকাঠি নাড়ছে’ এমন অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, চিঠি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট একই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় পর্যায়ে তদন্ত, সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত, এরপর উপজেলা পর্যায়ে পুনরায় শুনানি এবং একই তারিখে ভিন্ন বক্তব্যের চিঠি পুরো প্রক্রিয়াটিই এখন স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছে।
বিশেষ করে ১৪ জুলাইয়ের চিঠি এবং পরবর্তীতে একই তারিখে সংশোধিত চিঠি ইস্যুর বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে কীভাবে ঘটেছে, সেটিই এখন অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সাইফুল আলম এবং সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল আহমেদের পূর্ণাঙ্গ ও লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদনের মূল প্রশ্ন একটাই—একটি অভিযোগের বিচার যখন বিদ্যালয় পর্যায়ে তদন্ত ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে, তখন একই অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে এতগুলো নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলো কেন? আর এই সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটিই বা কী ছিল?
চ্যানেল দুর্জয়ের অনুসন্ধানে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিভিত্তিক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া।























