যশোরের বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা মামলার জট খুলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের আরাফাতের ছেলে সবুজ হোসেন (২১)। নিহত ইউনুস আলী (৪৭) ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
পিবিআই-এর পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পূর্বের দাম্পত্য জটিলতা থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় একত্রে বসবাস—এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র হয় এবং শেষ পর্যন্ত হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
গত ২২ এপ্রিল তরিকুল ইসলাম কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ারসহ কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে সবুজের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সবুজ হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।