বৈশাখ এলেই সাধারণত কালবৈশাখী ঝড়ের কথা মনে পড়ে। এ সময় ঝড়ের তাণ্ডবে গাছপালা, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে এবার বৈশাখে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ঝড় দেখা যায়নি। বরং গত কয়েক দিনে বর্ষার মতো টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। দীর্ঘ চার-পাঁচ মাসের খরার পর এই বৃষ্টি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবনে কিছুটা প্রশান্তি ফিরেছে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য এ বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সেচ সংকট কাটিয়ে ফসল এখন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে, আর ইরি-বোরো ধানে ভালো ফলনের আশা জেগেছে।
তবে এই স্বস্তির পাশাপাশি নগরজীবনে দেখা দিয়েছে ভোগান্তির চিত্র। রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই পানি জমে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যা নতুন নয়; বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা নানা সমাধানের পরামর্শ দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।
বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রতি বছরই দেখা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তার সঙ্গে যুক্ত হয় চলমান সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, যা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পানিবদ্ধতা ও যানজট মিলে নগরবাসীর জীবন হয়ে ওঠে অত্যন্ত কষ্টকর।
এই সমস্যার অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বিদ্যমান ড্রেন ও নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সেগুলো আবর্জনায় ভরে থাকে, ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না। পাশাপাশি খাল ও জলাশয় দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। খাল ও জলাশয় উদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং দায়সারা মনোভাব পরিহার করা প্রয়োজন।
এ সমস্যার সমাধানে নাগরিকদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। পলিথিন ও কঠিন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা বন্ধ করতে হবে, যাতে ড্রেন বন্ধ হয়ে না যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পানিবদ্ধতা এখন নগরজীবনের বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এখন সময় কথার চেয়ে কাজে প্রমাণ করার।