যশোর প্রতিনিধি: যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। কোতয়ালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযানে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ডিবির এসআই অলোক কুমার দে’র নেতৃত্বে একটি দল থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্ত মরিয়মকে আটক করে। পরে দুপুর ১টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, নিহত সকিনা বেগম (৬০) বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী। গত ২১ এপ্রিল সকালে তার ছেলে শহিদুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার সময় স্ত্রী মরিয়ম তাকে বাইরে খেয়ে নিতে বলেন এবং জানান বাসায় রান্না হয়নি। এ সময় মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম জানান, তিনি তালিমে গেছেন।
রাতে বাড়ি ফিরে শহিদুল ইসলাম তার মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ নেন। মরিয়ম একই কথা বললে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তিনি কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতর থেকে লাশ দেখতে পান তিনি। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন লাশটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরিয়মের আচরণে অসংগতি দেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনার দিন শাশুড়ির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করেন। পরে লাশ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ঘরের ওয়ারড্রোবের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।