10 Jul 2026, Fri

কিশোরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা- শার্শার এসিল্যান্ড সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যশোর প্রতিনিধি :

যশোরের শার্শায় এক মাদ্রাসা পড়ুয়া কিশোর আব্দুল্লাহকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে শার্শার সহকারী কমিশনার (ভূমি) , শার্শা থানা পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক সহ এসিল্যান্ড অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দুদকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামের আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযোগকারীর আইনজীবী অ্যাড. শেখ তাজ হোসেন তাজু।

অভিযুক্তরা হলেন শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) মো. নিয়াজ মাখদুম, শার্শা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহিন, এসি ল্যান্ড অফিসের পেশকার রোকনুজ্জামান এবং নাজির কাম ক্যাশিয়ার সালাউদ্দিন কাওছার।

অভিযোগে আব্দুস সালাম উল্লেখ করেছেন, তার পুত্র মোঃ আব্দুল্লাহ লক্ষণপুর দারুল হাকিম মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্র। গত ১১ জুন শার্শার নাভারন পুরাতন বাজারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আবদুল্লার গতিরোধ করে তার পকেটে থাকা দুই হাজার টাকা বের করে নেন শার্শা থানার এএসআই শাহিন।পরবর্তীতে আব্দুল্লাহর কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে তাকে শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) মো. নিয়াজ মাখদুমের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে , কিশোর আব্দুল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য গত ১৫ জুন ওই কিশোরের পিতা আব্দুস সালাম নিজেই আবেদন করেন সার্টিফাইড কপির জন্য । না পেয়ে ফের ২৮ জুন আইনজীবীর মাধ্যমে যশোর জেলা প্রশাসকের ই-সেবা কেন্দ্রে মামলার সার্টিফাইড কপির (নকল) আবেদন করেন । পরদিন আবেদনটি শার্শা’র এসি ল্যান্ড অফিসে পৌঁছালে আব্দুস সালাম সেখানে কপিটি সংগ্রহ করতে যান। কিন্তু এসি ল্যান্ড অফিসের পেশকার রোকনুজ্জামান ও নাজির কাম ক্যাশিয়ার সালাউদ্দিন কাওছার তার সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন এবং পরবর্তীতে অফিসে আসতে নিষেধ করেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে মামলার নকল পেতে ব্যর্থ হয়ে তিনি অবশেষে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

শার্শার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম জানিয়েছেন, ‘থানা পুলিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে ওই যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে তার বয়স ১৮ বছরের উপরে উল্লেখ ছিল। তাছাড়া আটক যুবক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল এবং তার কাছে গাঁজা পাওয়া গিয়েছিল ’
তিনি আরও বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক যুবক নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার বয়স ১৮ বছরের কম না বেশি, তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। এই সাজার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার প্রয়োজনীয় কপিও প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *