যশোর প্রতিনিধি :
শারীরিক উচ্চতা মাত্র ৪ ফুট হলেও কর্মের জন্য স্পাইডার শামীম বনে গেছেন যশোরের শামীম হোসেন (৩২) ওরফে স্পাইডার শামীম । কারার প্রাচীরের মত সুউচ্চ প্রাচীর বেয়ে কখনো আবার ইদুরের গর্তেও মত ছিদ্রদিয়ে অন্যের ঘরে প্রবেশ করে দুঃসাহিসক চুরির মাধ্যমে নামের সাথে স্পাইডার খেতাব জুড়েছেন তিনি। আরও অবাক করা ব্যাপার।স্পাইডার শামীম কখনো সাধারন মানুষের ঘরে চুরি করেন না। তার টার্গেটই পুলিশ সেনাবাহীনি সহ বিভিন্ন বাহীনির সদস্যদের বাসাবাড়ি ।
চাকুরির সুবাধে এসব বাহীনির কর্মকর্তারা প্রায়ই থাকেন বাড়ির বাইরে । এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শামিম ওরফে স্পাইডার শামিম নির্বিঘ্নে তার চুরি কাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে।
ধরা যাতে না পড়েন সেজন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। নিজের নামে ও স্ত্রীর নামে যশোর শহর ও শহরতলীতে ৩ টি বাড়ি থাকলেও যশোরের শেখহাটি বাবলাতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই এই স্পাইডার রুপকথাকেও হার মানাতে পারে।
যশোরে পুলিশ সহ বিভিন্ন বাহীনির সদস্যদের বাড়ীতে চুরিকান্ড ঘটে আসছিলো প্রায় বছরখানেকধরে। এসব ঘটনায় অভিযোগও হয়েছে থানায় । কিন্তু চোর ধরা পড়েনি। সবশেষ গেল ২৪ জুন শহরের কাঁঠাল তলায় মেজর রেজাউলের ফাঁকা বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার সহ প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি করে পালিয়ে যায় শামিম।
এবার সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হয় সে দৃশ্য কিন্তু শামিমকে খুঁজে পাওয়া ছিলো চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার । ক্লুলেস কাজ করা এই চোর এবার সিসি ক্যামেরা বন্ধ মনে করে কাজ করছিলো । থানা পুলিশ কয়েকদিন চেষ্টার পর মামলাটি দেয়া হয় ক্লুলেস ঘটনার রহস্য উৎঘাটনে বেশ আলোচিত এসআই অলোক কুমার দে’র কাছে ।থানা থেকে মামলা ট্রান্সফার করা হয় উপশহর পুলিশ ক্যাম্পে । তাৎক্ষনিক তার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দিয়ে সহায়তা নেন ফরেনসিকের । জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়ার পর শুধু মাত্র মোবাইলে জুয়া খেলার সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে চোর।
উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অলক কুমার দে জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে এ কাজ সে একাই করলেও শামিমের বিশস্ত সঙ্গী ছিলো তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (২৮)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুধুমাত্র মোবাইল জুয়ার সূত্রধরে আটক করা হয় শামিম ওরফে স্পাইডার শামিমকে । তার দেয়া তথ্যনুযায়ী শামিমের ঘর তল্লাশীর সময় বৃষ্টি চোরাই মালামাল বের করে দেন ।
এঘটনায় স্পাইডার শামীম ও তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।
তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসী ও অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা হতবাক , এমন ঠান্ডা মাথার চোর তারা আগে দেখেননি বলে মন্তব্য করতে শোণা যায়।














