যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুরে মাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার আলোচিত মামলার আসামি মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) মারা গেছেন। খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুনের মৃত্যু হয়। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ হাসানও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলার আবিদ হাসান জানান, মাকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তারের পর মামুন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন। তাঁর হাজতি নম্বর ৫১০৫/২৫। রোববার হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়। পরে খুলনা কারাগারের সদস্যরা হাসপাতালে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামুনের মরদেহ যশোরে পাঠানো হয়েছে।
মামুন বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮)।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথমে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন তিনি। প্রায় আট-নয় বছর আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে বিয়ে করেন। প্রায় ছয় বছর আগে তাঁদেরও বিচ্ছেদ ঘটে। পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মামুন তাঁর মাকে দায়ী করতেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে অতীতেও মা-ছেলের মধ্যে বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, পারিবারিক অস্থিরতার কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর বিরতিতে গত ২৭ আগস্ট তিনি বাড়িতে ফেরেন।
ওই দিন বিকেলে মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন মামুন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ধারালো বটি দিয়ে মাকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বটি ফেলে পালিয়ে যান মামুন। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন মামুনুর রশিদ মামুন।




















