নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের মণিরামপুরে ফের রক্তাক্ত হলো জনপদ। ব্যস্ত কপালিয়া বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিতে ঝরে গেল রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪২)। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে থাকা অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
এই সংবাদটির ভিডিও দেখতে এই লেখার উপর ক্লিক করুন।
হত্যাকাণ্ডের পর এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন এসে কোনো কথাবার্তা ছাড়াই গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে, যা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতারই প্রমাণ।
নিহত রানা প্রতাপ কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। তিনি শুধু ব্যবসায়ীই নন—বরফকল, ঘের ও মৎস্য ব্যবসার পাশাপাশি কেশবপুর কাটাখালি মৎস্য আড়ৎ সমিতির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। একই সঙ্গে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও কাজ করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনে একাধিক মোটিভ থাকতে পারে। নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন ছেড়ে দেওয়ার জের, পেশাগত দ্বন্দ্ব কিংবা দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক শত্রুতা—এই তিন দিককে সামনে রেখে তদন্ত চলছে। তবে ঠিক কোন কারণে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।
প্রকাশ্য বাজারে এভাবে একজন মানুষকে গুলি করে হত্যা ফের প্রশ্ন তুলেছে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। সাধারণ মানুষ জানতে চায়—এই খুনের নেপথ্যে কারা, আর কেনই বা ঝরলো আরেকটি প্রাণ?
Leave a Reply